পরমাণুর গঠন ইলেকট্রন ,নিউট্রন ও প্রোটন (Structure of atom electron, newtron, proton )

 পরমাণুর গঠন ইলেকট্রন ,নিউট্রন ও প্রোটন

 (Structure of atom electron, newtron, proton )




📝 পদার্থ মাত্রই অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার সমষ্টি এ ধারণা অতীতে প্রথম ভারতীয় দার্শনিক কণাদ দিয়েছিলেন ।পরবর্তীকালে জন ডাল্টন পরামর্শ সঠিক ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন।


🌐 পরমাণু কাকে বলে (What is Atom )?

মৌলিক পদার্থের যে ক্ষুদ্রতম কণা গুলির মধ্যে ঐ মৌলের সব ধর্ম বজায় থাকে এবং যারা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাদের পরমাণু বলে।


🌐 একটি পরমাণু কি কি নিয়ে গঠিত হয় (structure of atom) ?

পরমাণু প্রধানত  দুটি অংশ  নিয়ে গঠিত - পরমাণুর কেন্দ্র বা নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াস বহির্ভূত অংশ বা ইলেকট্রন মহল।




পরমাণুর কেন্দ্র বা নিউক্লিয়াস :

  1. পরমাণুর কেন্দ্রে যে অতিক্ষুদ্র স্থানে পরমাণুর সমস্ত পজিটিভ আধান ও প্রায় সব ভর কেন্দ্রীভূত থাকে তাকে পরমাণুর কেন্দ্র বা নিউক্লিয়াস বলে।
  2. পরমাণুর নিউক্লিয়াস প্রোটন ও নিউট্রন কণা দিয়ে গঠিত।
  3. পরমাণুর নিউক্লিয়াস সর্বদা পজিটিভ তড়িৎ গ্রস্ত হয়।
  4. পরমাণু তুলনায় নিউক্লিয়াসের আয়তন খুবই নগণ্য হলে এর ঘনত্ব খুব বেশি।
  5. পরমাণুর থেকে সুস্থিত অংশ হলো নিউক্লিয়াস।

ইলেকট্রন মহল : 
  1. নিউক্লিয়াসকে কে কেন্দ্র করে মোট সাতটি কক্ষপথে ইলেকট্রন ঘুরতে থাকে।
  2.  ইলেকট্রন  মহলে প্রধানত ইলেকট্রন থাকে যেটি নেগেটিভ তড়িৎ গ্রস্ত।
  3. নিউক্লিয়াসে যত সংখ্যক প্রোটন থাকে ইলেকট্রন মহলে সমসংখ্যক ইলেকট্রন থাকে।
  4. ইলেকট্রনগুলি নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে মোট সাতটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে আবর্তন করে এই কক্ষপথগুলি কে ঘোড়ার সময় ইলেকট্রনগুলি কোন শক্তি বিকিরণ করে না ফলে কক্ষপথগুলি শক্তির মান নির্দিষ্ট থাকে তাই এদের মুখ্য শক্তি স্তর বলে। কক্ষপথগুলি - K,L,M,N,O,P,Q
  5. প্রতিটি কক্ষে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন সংখ্যা 2n² বা 32 এর বেশি হয় না। এখানে n হল মুখ্য শক্তিঘর সংখ্যা ,K(n=1),L(n=2),M(n=3) ।
  6. কোন পরমাণুর সবথেকে বাইরের কক্ষপথে 8 বেশি ইলেকট্রন থাকতে পারে না এবং বাইরের কক্ষে ঠিক আগে কক্ষপথে 18 টির বেশি ইলেকট্রন থাকতে পারে না।


🌐 পরামানু প্রধানত তিনটি কণা নিয়ে গঠিত 

- ইলেকট্রন নিউট্রন এবং প্রোটন।

এছাড়া পরমাণুতে আরো কিছু কণা পাওয়া যায় সেগুলি হল-

পজিট্রন, মেসন, নিউট্রিনো , এন্টি নিউট্রিনো,  ডয়টেরন ও আলফা কণা।


🌐 ইলেকট্রন(Electron):

  • 1879 খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী উইলিয়াম ক্রুকস পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ক্যাথোড রশ্মী বা ইলেকট্রনের আবিষ্কার করেন।
  • পরবর্তীকালে 1897 খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী জে জে টমসন এর প্রকৃতি এবং বৈশিষ্ট্য গুলি নির্ণয় করেন।
  • বিজ্ঞানী স্টোন এর নাম দেন ইলেকট্রন।
  • ইলেকট্রন হল নেগেটিভ তড়িৎ গ্রস্ত কণা যেটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কক্ষপথে ঘুরতে থাকে।
  • ইলেকট্রন পরমাণুর সবচেয়ে হালকা কণা।

কণার নাম আধান ভর (SI) ব্যাস(SI)
ইলেকট্রন -1.602×10-¹9 কুলম্ব 9.11×10-²1 কেজি 5.6×10-¹5 মিটার
প্রোটন +1.602×10-¹9 কুলম্ব 1.6725×10-²7 কেজি 2.4×10-¹5 মিটার
নিউট্রন আধান হীন 1.675×10-²7 কেজি 2.4×10-¹5 মিটার

🌐 প্রোটন কণা:
  1. প্রোটন কণা নিউক্লিয়াসের কেন্দ্রে অবস্থিত পজিটিভ তড়িৎ গ্রস্ত কণা।
  2. 1886 সালে বিজ্ঞানী গোল্ডস্টাইন প্রোটন কণা আবিষ্কার করেন।
  3. 1920 সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড ক্ষুদ্র পজিটিভ তড়িৎ গ্রস্ত কনার নাম দেন প্রোটন।
  4. প্রোটনের ভর ইলেকট্রনের ভরের প্রায় 1837 গুণ।
  5. H+ আয়ন হলো প্রোটন কণা।

🌐 নিউট্রন কণা :
  1. নিউট্রন কণা আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী স্যাডউইক।
  2. নিউটন হল আধান হীন কণা।
  3. নিউট্রন কণা পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে।
  4. একটি নিউট্রনের ভর ইলেকট্রনের ভরের প্রায় 1839 গুন।
  5. নিউট্রন হল পরমাণুর সবচেয়ে ভারী কণা।
  6. সাধারণ হাইড্রোজেন এর ক্ষেত্রে পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউটন কণা অবস্থিত।


Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad

Ads Area